আধুনিক অপরাধ মোকাবিলা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
আধুনিক সময়ের নানামুখী অপরাধ মোকাবিলা এবং পুলিশ বাহিনীর যুগোপযোগী সংস্কার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দফতরে সিঙ্গাপুরের অনিবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এই সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও নিবিড় ও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বৈঠকের বিষয়ে জানান, এদিন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন, তথ্য আদান-প্রদান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। হাইকমিশনার ডেরেক লো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর সফর করে তাদের কার্যক্রম দেখতে পারে। এছাড়া ‘সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিবছর আয়োজিত শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠককালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান স্ক্যাম, ফিশিং ও অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন। এ সময় হাইকমিশনার আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে তাৎক্ষণিক বা রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে বাংলাদেশ সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে। এছাড়া অপরাধ দমনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুরের কাছে পাঠানো ‘ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ চুক্তির প্রস্তাবটি সিঙ্গাপুরের সম্মতি পেলে দ্রুত স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার। তিনি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আবাসন এবং যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ করার আগ্রহের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিরাজমান চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরও বড় পরিসরে এ দেশে বিনিয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























