ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কিশোরদের মদ্যপান হ্রাস: কেবল ‘সুস্বাস্থ্য’ নাকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা?

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মদ্যপান করছে। এই মদমুক্ত থাকার প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হলেও, এর পেছনের কারণগুলো বেশ জটিল। গবেষকদের মতে, এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নয়, বরং একাধিক বিষয় কাজ করছে। অনেক কিশোরের ক্ষেত্রে সামাজিক মেলামেশার অভাবও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার এবং করোনা মহামারির প্রভাব তরুণ প্রজন্মের সামাজিক জীবনকে আমূল পরিবর্তন করেছে। এর ফলে তারা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন ও একাকী হয়ে পড়ছে। জেন জি গবেষক র‍্যাচেল জানফাজা বলেন, ‘কোভিডের পর আমাদের সামাজিক মেলামেশার ধরনটাই পুরোপুরি বদলে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এই দুই শক্তির মেলবন্ধনে আমাদের আড্ডা দেওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে।’

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ‘মনিটরিং দ্য ফিউচার’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্প গত অর্ধ শতাব্দী ধরে তরুণদের মাদক গ্রহণের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে কিশোরদের মদ্যপানের হার কমতে শুরু করে, যা বর্তমানে আরও গতি পেয়েছে।

গবেষণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বার্ষিক মদ্যপানের হার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

গবেষণার প্রধান রিচার্ড মিচ বলেন, ‘মদ্যপানসহ সব ধরনের মাদক গ্রহণই মূলত একটি সামাজিক বিষয়।’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবনে কখনোই মদ বা অন্য কোনো মাদক ব্যবহার না করার হার ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই হার রেকর্ডের কাছাকাছি। এর অর্থ হলো, তরুণরা মদের বদলে অন্য কোনো মাদকের দিকে ঝুঁকছে না, বরং তারা কোনো মাদকই গ্রহণ করছে না।

গবেষক জানফাজা তরুণদের মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, মহামারির পর থেকে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় তরুণীকে সাইবার হয়রানি: সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে

কিশোরদের মদ্যপান হ্রাস: কেবল ‘সুস্বাস্থ্য’ নাকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা?

আপডেট সময় : ১১:৫০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মদ্যপান করছে। এই মদমুক্ত থাকার প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হলেও, এর পেছনের কারণগুলো বেশ জটিল। গবেষকদের মতে, এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নয়, বরং একাধিক বিষয় কাজ করছে। অনেক কিশোরের ক্ষেত্রে সামাজিক মেলামেশার অভাবও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার এবং করোনা মহামারির প্রভাব তরুণ প্রজন্মের সামাজিক জীবনকে আমূল পরিবর্তন করেছে। এর ফলে তারা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন ও একাকী হয়ে পড়ছে। জেন জি গবেষক র‍্যাচেল জানফাজা বলেন, ‘কোভিডের পর আমাদের সামাজিক মেলামেশার ধরনটাই পুরোপুরি বদলে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এই দুই শক্তির মেলবন্ধনে আমাদের আড্ডা দেওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে।’

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ‘মনিটরিং দ্য ফিউচার’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্প গত অর্ধ শতাব্দী ধরে তরুণদের মাদক গ্রহণের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে কিশোরদের মদ্যপানের হার কমতে শুরু করে, যা বর্তমানে আরও গতি পেয়েছে।

গবেষণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বার্ষিক মদ্যপানের হার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

গবেষণার প্রধান রিচার্ড মিচ বলেন, ‘মদ্যপানসহ সব ধরনের মাদক গ্রহণই মূলত একটি সামাজিক বিষয়।’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবনে কখনোই মদ বা অন্য কোনো মাদক ব্যবহার না করার হার ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই হার রেকর্ডের কাছাকাছি। এর অর্থ হলো, তরুণরা মদের বদলে অন্য কোনো মাদকের দিকে ঝুঁকছে না, বরং তারা কোনো মাদকই গ্রহণ করছে না।

গবেষক জানফাজা তরুণদের মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, মহামারির পর থেকে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি।