ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মির্জা ফখরুলের ধমক দেওয়ার ভিডিও শেয়ার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক ব্যক্তিকে ধমক দেওয়ার ১১ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও নিজের ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ায় পদ হারিয়েছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের এক নেতা। তার এই কাজকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। 

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম খাইরুল ইসলাম ওরফে রোমান (৩২)। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। ২০১৮ সালে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। খাইরুল ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। গত ২৫ অক্টোবর গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের খাদ্য অধিদফতরের উপপরিদর্শক পদে পরীক্ষার্থী যারা ফরিদপুরে এসে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

বহিষ্কার করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বার্তা প্রেরক হিসেবে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খাইরুল ইসলামের সঙ্গে কোনও রূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‌‘আমাদের দলের মহাসচিব এক ব্যক্তিকে ধমক দিয়েছেন। আমি রবিবার দুপুরে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও পরম সহিষ্ণুতার কোনও বিকল্প নেই। ওই ব্যক্তি বা কর্মীও তো আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তাদের প্রতি সহনশীল থাকা আমাদের জন্য জরুরি। তবে ইতিমধ্যে ভুল বুঝতে পেরে পোস্টটি ডিলিট করে ক্ষমাও চেয়েছি। তবু আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন আর কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুলের ভাইরাল হওয়া ১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জনাকীর্ণ ভবনের ভেতরে হাঁটছিলেন। আশপাশে অনেক নেতাকর্মী। তখন একজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে মির্জা ফখরুলকে বলেন, আমাকে চিনছেন নাকি? এরপর মির্জা ফখরুল তাকে ধমক দেন। এটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

মির্জা ফখরুলের ধমক দেওয়ার ভিডিও শেয়ার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় : ১০:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক ব্যক্তিকে ধমক দেওয়ার ১১ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও নিজের ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ায় পদ হারিয়েছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের এক নেতা। তার এই কাজকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। 

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম খাইরুল ইসলাম ওরফে রোমান (৩২)। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। ২০১৮ সালে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। খাইরুল ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। গত ২৫ অক্টোবর গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের খাদ্য অধিদফতরের উপপরিদর্শক পদে পরীক্ষার্থী যারা ফরিদপুরে এসে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

বহিষ্কার করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বার্তা প্রেরক হিসেবে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খাইরুল ইসলামের সঙ্গে কোনও রূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‌‘আমাদের দলের মহাসচিব এক ব্যক্তিকে ধমক দিয়েছেন। আমি রবিবার দুপুরে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও পরম সহিষ্ণুতার কোনও বিকল্প নেই। ওই ব্যক্তি বা কর্মীও তো আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তাদের প্রতি সহনশীল থাকা আমাদের জন্য জরুরি। তবে ইতিমধ্যে ভুল বুঝতে পেরে পোস্টটি ডিলিট করে ক্ষমাও চেয়েছি। তবু আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন আর কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুলের ভাইরাল হওয়া ১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জনাকীর্ণ ভবনের ভেতরে হাঁটছিলেন। আশপাশে অনেক নেতাকর্মী। তখন একজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে মির্জা ফখরুলকে বলেন, আমাকে চিনছেন নাকি? এরপর মির্জা ফখরুল তাকে ধমক দেন। এটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।