ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠনে নতুন আইন প্রণয়ন করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার (১৭ মে) দুপুরে র‍্যাব সদর দফতরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, র‍্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। র‍্যাবের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।

তিনি জানান, দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে স্ব-স্ব বাহিনীর নিজস্ব আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের অধীনে যখন এই বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুনভাবে নামকরণ করা হবে, তখন মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।

আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে র‍্যাব সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাধীন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়নি। বরং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স এভাবে দীর্ঘদিন অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় চলতে পারে না। এ আইনি ত্রুটি দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচারে মন্থর গতি: বিচারপ্রার্থী ও শহীদ পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ

আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠনে নতুন আইন প্রণয়ন করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার (১৭ মে) দুপুরে র‍্যাব সদর দফতরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, র‍্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। র‍্যাবের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।

তিনি জানান, দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে স্ব-স্ব বাহিনীর নিজস্ব আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের অধীনে যখন এই বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুনভাবে নামকরণ করা হবে, তখন মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।

আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে র‍্যাব সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাধীন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়নি। বরং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স এভাবে দীর্ঘদিন অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় চলতে পারে না। এ আইনি ত্রুটি দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।