ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নতুন করে গ্রেফতার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে গত ২৫ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য একটি দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করে শ্রমিক রিক্রুটিংয়ের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। চুক্তিবদ্ধ পারিশ্রমিকের বাইরে গিয়ে প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এভাবেই ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে যে, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্টের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন ২৪ এপ্রিল সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলার বর্ষা: কদম, শাপলা, হিজল ও করচ—প্রকৃতির চার নীরব দূত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নতুন করে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০১:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে গত ২৫ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য একটি দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করে শ্রমিক রিক্রুটিংয়ের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। চুক্তিবদ্ধ পারিশ্রমিকের বাইরে গিয়ে প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এভাবেই ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে যে, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্টের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন ২৪ এপ্রিল সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।