ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন চালু: ৭ মিনিটে চিকিৎসা, খরচ আকাশছোঁয়া

ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো ভারতে। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের জন্য মাত্র সাত মিনিটের একটি ইনজেকশন বাজারে এসেছে, যা চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করে তুলবে। টেসেন্ট্রিক নামের এই ওষুধটি ভারতে নিয়ে এসেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো। তবে নতুন এই ইনজেকশনটি সরাসরি ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, যার জন্য মাত্র সাত মিনিট সময় লাগে। চিকিৎসকরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি রোগীদের ভোগান্তি কমাবে এবং হাসপাতালের ওপরও চাপ হ্রাস করবে।

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ এনএসসিএলসি (NSCLC) রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকা এবং বারবার যাতায়াতের কারণে বিশেষ করে বয়স্ক বা দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা যে ক্লান্তিতে ভুগতেন, নতুন ইনজেকশনের গতি ও সুবিধার কারণে তা অনেকটাই লাঘব হবে।

এই নতুন ইনজেকশনে অ্যাটেজোলিজুমাব (Atezolizumab) নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ‘পিডি-এল১’ (PD-L1) নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো মূলত এই প্রোটিন ব্যবহার করেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি ব্লক হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। টিউমারে উচ্চ মাত্রার পিডি-এল১ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই চিকিৎসার যোগ্য হতে পারেন।

চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করেন। কারণ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে, ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সাফল্য হলেও এর আকাশচুম্বী দাম ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার রুপি। চিকিৎসা চলাকালীন একজন রোগীর সাধারণত প্রায় ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়, যার মোট খরচ দাঁড়ায় কয়েক লাখ রুপি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, হিজবুল্লাহর পাল্টা আঘাতের দাবি

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন চালু: ৭ মিনিটে চিকিৎসা, খরচ আকাশছোঁয়া

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো ভারতে। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের জন্য মাত্র সাত মিনিটের একটি ইনজেকশন বাজারে এসেছে, যা চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করে তুলবে। টেসেন্ট্রিক নামের এই ওষুধটি ভারতে নিয়ে এসেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো। তবে নতুন এই ইনজেকশনটি সরাসরি ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, যার জন্য মাত্র সাত মিনিট সময় লাগে। চিকিৎসকরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি রোগীদের ভোগান্তি কমাবে এবং হাসপাতালের ওপরও চাপ হ্রাস করবে।

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ এনএসসিএলসি (NSCLC) রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকা এবং বারবার যাতায়াতের কারণে বিশেষ করে বয়স্ক বা দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা যে ক্লান্তিতে ভুগতেন, নতুন ইনজেকশনের গতি ও সুবিধার কারণে তা অনেকটাই লাঘব হবে।

এই নতুন ইনজেকশনে অ্যাটেজোলিজুমাব (Atezolizumab) নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ‘পিডি-এল১’ (PD-L1) নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো মূলত এই প্রোটিন ব্যবহার করেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি ব্লক হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। টিউমারে উচ্চ মাত্রার পিডি-এল১ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই চিকিৎসার যোগ্য হতে পারেন।

চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করেন। কারণ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে, ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সাফল্য হলেও এর আকাশচুম্বী দাম ভারতীয় পরিবারগুলোর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার রুপি। চিকিৎসা চলাকালীন একজন রোগীর সাধারণত প্রায় ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়, যার মোট খরচ দাঁড়ায় কয়েক লাখ রুপি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।