যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতে এক নতুন ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির বড় এবং পারিবারিক বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাড়িগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন বয়স্ক ‘বেবি বুমার্স’ প্রজন্মের দখলে, যাদের সন্তানরা ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে। অন্যদিকে, সন্তানসহ তরুণ মিলেনিয়াল দম্পতিদের জন্য প্রয়োজনীয় বড় বাড়ির সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা আবাসন বাজারকে আরও বেশি সংকটে ফেলছে।
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি বেডরুমের বড় বাড়িগুলোর প্রায় ২৮ শতাংশের মালিকানা এখন প্রবীণ প্রজন্মের হাতে। এর বিপরীতে, সন্তান রয়েছে এমন মিলেনিয়াল বাবা-মায়েদের দখলে রয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ বড় বাড়ি। আর জেন জি প্রজন্মের বাবা-মায়েদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম। বড় শহরগুলোতে যেমন অস্টিন, কলম্বাস ও মিনিয়াপোলিসে মিলেনিয়াল পরিবারের বড় বাড়ি কেনার প্রবণতা ১৯ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি ও সান জোসের মতো শহরগুলোতে তা মাত্র ১৩ শতাংশের আশেপাশে। মেমফিস, ক্লিভল্যান্ড ও পিটসবার্গের মতো শহরগুলোতে প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি বড় বাড়ি প্রবীণদের দখলে রয়েছে।
প্রবীণরা তাদের পুরোনো বাড়িতে থেকে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। অনেকেরই বাড়ির মর্টগেজ পরিশোধ করা হয়ে গেছে অথবা তারা অত্যন্ত কম সুদের হারে মর্টগেজ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, এই বয়সে তারা পরিচিত পরিবেশে, পরিবারের কাছাকাছি থাকতে এবং দশকের পর দশক ধরে জমিয়ে রাখা জিনিসপত্র গোছানোর ঝামেলা এড়াতে চান।
অন্যদিকে, মিলেনিয়াল পরিবারগুলো বড় বাড়িতে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে সরবরাহ ও সাশ্রয়ী মূল্যের দ্বৈত সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। বাজারে পারিবারিক আকারের পর্যাপ্ত বাড়ির অভাব এবং উচ্চমূল্য ও চড়া মর্টগেজ রেট তরুণ ক্রেতাদের জন্য বড় বাড়ি কেনা কঠিন করে তুলেছে। তবে, গত এক দশকে মিলেনিয়ালদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে তারা মাত্র ৫ শতাংশ বড় বাড়ির মালিক ছিল, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূলত প্রবীণ প্রজন্মের কাছ থেকে বাড়ি কিনে তারা এই অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















