আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সরকার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক গতি ফেরানোর নতুন পথ খুঁজছে। রাজস্ব সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ এবং দুর্বল আর্থিক খাতের মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্যে সরকার আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত আয় বা ‘কালো টাকা’ বিনিয়োগের সুযোগ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। একইসঙ্গে অন্তত ২০টির বেশি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে ‘কর অবকাশ’ বা ‘ট্যাক্স হলিডে’ সুবিধা পুনর্বহালের পরিকল্পনাও চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উৎপাদনমুখী খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে ইতোমধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, এটি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার শামিল হতে পারে।
বাজেট আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি বা ‘ইনডেমনিটি’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ কেউ নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করে বিনিয়োগ করলে পরবর্তী সময়ে সেই অর্থের উৎস নিয়ে কর কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনও সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ আসতে পারে। তবে কী হারে কর নেওয়া হবে বা কোন কাঠামোয় সুবিধা দেওয়া হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি অর্থের উৎস নিয়ে ভবিষ্যতে তদন্তের ঝুঁকি থাকে, তাহলে কেউ এই সুযোগ নিতে আগ্রহী হবে না। এজন্য পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।’
মূলত আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের যুক্তি, উচ্চ সুদহার, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রিয়েল এস্টেট খাত মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে আবাসন খাতে স্থবিরতা কাটবে এবং সংশ্লিষ্ট শতাধিক শিল্পে নতুন গতি আসবে। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতাও তীব্র।
রিপোর্টারের নাম 




















