জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁর নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দায় দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনসহ কাউকে দুর্নীতি করতে দেবেন না। এমন কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে, পরিচয় নির্বিশেষে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে মাদক সমাজের সর্বস্তরে একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা এখন গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। যুবসমাজকে এই মরণ ছোবল থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি প্রতিটি পিতা-মাতাকে তাঁদের সন্তানদের স্মার্টফোন ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কলমাকান্দার ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করতে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডেপুটি স্পিকার খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কৃষকদের তালিকায় মিল মালিক ও ফড়িয়াদের অন্তর্ভুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৭৮ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে ৮০ শতাংশই প্রকৃত কৃষক নন এবং মিল মালিকরা কৃষকের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি মূল্যের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া কোনো কৃষককে ঠকিয়ে সুবিধাভোগীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক হাওরের বন্যাকে ‘প্রাকৃতিকের চেয়ে মানবসৃষ্ট’ উল্লেখ করে তিনি মাছ চাষের নামে বড় গর্ত তৈরি এবং বাঁধের জমি বেদখলকে এর জন্য দায়ী করেন, যা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবিলম্বে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে থাকা দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা জনগণের সেবক, মালিক নন। দায়িত্ব অবহেলা করলে প্রয়োজনে তাঁদের বদলি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























