ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: খেলাফত মজলিস

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে নেতারা এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এই সময় নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা আরও বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণেরই অংশ। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলেও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেনি। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং কোরবানির পশুরহাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাকে হতাশাজনক বলে চিহ্নিত করে।

খেলাফত মজলিস নেতারা সরকারে প্রতি ফেনী, সিলেট, রংপুরসহ সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা কবলিত অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানান। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরও বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে তারা রাজনৈতিক বেইমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হামলা বন্ধে ঐকমত্য, দোহায় বৈঠক

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: খেলাফত মজলিস

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে নেতারা এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এই সময় নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা আরও বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণেরই অংশ। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলেও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেনি। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং কোরবানির পশুরহাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাকে হতাশাজনক বলে চিহ্নিত করে।

খেলাফত মজলিস নেতারা সরকারে প্রতি ফেনী, সিলেট, রংপুরসহ সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা কবলিত অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানান। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরও বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে তারা রাজনৈতিক বেইমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে।