ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে গ্রাহক আস্থা অর্জনে সফল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি নতুন বছরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকটি কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নেয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের চেক ডিজঅনার হয়নি। বরং, প্রতিনিয়ত গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মুনাফা অর্জনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের ডিপোজিট, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য স্থিতিশীল রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত কিছু রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের ফলে প্রাথমিকভাবে কিছু সূচকে সামান্য প্রভাব পড়লেও, বর্তমানে এর সুফল আসতে শুরু করেছে। গত এক বছরে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিস্টেম আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করছে। এছাড়া, এজেন্ট ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামী ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার জন্য ১২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-ও ছিল, যেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে কিছু নেতিবাচক চিত্র উঠে আসে এবং সরকারের তদারক সংস্থার পক্ষ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রায় ৬ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই পরিস্থিতি ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ একাধিক সংস্থার অডিটে বড় ধরনের অর্থিক লুটপাটের প্রমাণ মেলেনি। ফলে, ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

গত বছর শেষে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক অনুযায়ী, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আমানত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের বছর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, লক্ষ্যমাত্রা ১৫ মাস বয়সী শিশু

আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে গ্রাহক আস্থা অর্জনে সফল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

আপডেট সময় : ০১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি নতুন বছরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকটি কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নেয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের চেক ডিজঅনার হয়নি। বরং, প্রতিনিয়ত গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মুনাফা অর্জনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের ডিপোজিট, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য স্থিতিশীল রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত কিছু রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের ফলে প্রাথমিকভাবে কিছু সূচকে সামান্য প্রভাব পড়লেও, বর্তমানে এর সুফল আসতে শুরু করেছে। গত এক বছরে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিস্টেম আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করছে। এছাড়া, এজেন্ট ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামী ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার জন্য ১২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-ও ছিল, যেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে কিছু নেতিবাচক চিত্র উঠে আসে এবং সরকারের তদারক সংস্থার পক্ষ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রায় ৬ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই পরিস্থিতি ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ একাধিক সংস্থার অডিটে বড় ধরনের অর্থিক লুটপাটের প্রমাণ মেলেনি। ফলে, ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

গত বছর শেষে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক অনুযায়ী, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আমানত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের বছর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল…