দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য একটি করে ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) নিয়মিত টিকাদানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশের সকল বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে পরিচালিত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটি এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের সুবিধার জন্য এমআর-২ (এমআর-২) টিকার সঙ্গে এই টাইফয়েড টিকা একই সেশনে প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তারা প্রতিটি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত করবেন এবং টিকার চাহিদা নিরূপণ করে নিয়মিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করবেন। এছাড়া ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি বা ই-ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে সব তথ্য হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে শিশুদের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা ও গুণমান বজায় রাখতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং এগুলো ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে। ভ্যাকসিনের অপচয় রোধে মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও কমিউনিটি লিডারদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
রিপোর্টারের নাম 

























