কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে অস্কার বিজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাত দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রতি বছর এই মেলা স্থানীয়দের এবং দূর-দূরান্তের পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকে।
এ বছর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মেলা ইজারা বাবদ সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের ৭১ হাজার ৭০০ টাকার তুলনায় অনেক বেশি। তবে, ইজারাদার কর্তৃক নিলামের টাকা ওঠানোর জন্য অতিরিক্ত ফি আদায়ের ফলে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বৈশাখী মেলার প্রচলন শুরু হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ জমিদার হরি কিশোর রায় চৌধুরীর সময়ে। শ্রী শ্রী কাল ভৈরবী পূজা উপলক্ষে তিনি এই মেলার সূচনা করেছিলেন। এই বাড়িটি স্থানীয়ভাবে ‘রায়বাড়ি’ নামেই পরিচিত। বাড়ির সামনের খোলা মাঠ ও পুকুর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় মেলা বসে, যেখানে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, তৈজসপত্র, প্রসাধনী, কাঠের সামগ্রীসহ নানা ধরনের পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। মেলা প্রাঙ্গণে নাগরদোলা ও চরকি শিশুদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। মেলা চলাকালীন সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ মেলা পরিদর্শন, কেনাকাটা এবং বিনোদনের জন্য ভিড় করেন।
এই বাড়িতেই ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ, প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পরবর্তীতে ১৮৮৭ সালে এখানেই জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতা, ছড়াকার সুকুমার রায়। দেশ বিভাগের পূর্বে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী সপরিবারে কলকাতা চলে যান। উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ না থাকায় বাড়িটি বর্তমানে সরকারের রাজস্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মেলা থেকে এবার ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দরদাতাকে একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেলা চলাকালীন সময়ে সার্বিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















