স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক চাহিদা পূরণের পরিবর্তে কিছু ক্লিনিক ও হাসপাতাল যেন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কুমিল্লায় এমন চিত্র উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যেখানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দক্ষ জনবলের অভাব প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম থাকলেও বাস্তবে অনভিজ্ঞ কর্মীরাই রোগীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, যা ভুল রোগ নির্ণয়, অবহেলা এবং অপারেশনজনিত জটিলতা বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় এই অব্যবস্থাপনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও মানদণ্ড উপেক্ষা করে অস্ত্রোপচার, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান এবং অপর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের কারণে অনেক প্রসূতি ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা মাতৃত্বের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করছে। সাধারণ রোগীরাও ভুল চিকিৎসার কারণে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। বাসস্ট্যান্ড, বাজার এবং বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের আশেপাশে ওঁত পেতে থাকা দালালরা অসহায় রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সময়ের চাপ এবং পরিস্থিতির কারণে অনেক পরিবার না বুঝেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছে, যার ফলে পরবর্তীতে চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আর প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবই এই সকল অনিয়মের মূল কারণ। অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ এবং দালালচক্র নির্মূলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৮৩টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যার মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২টি। তবে, নগরীর ভেতরে কাগজ-কলমে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বাস্তবে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। পুরো জেলাজুড়ে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাত শতাধিক। সম্প্রতি, সততা স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং কুমিল্লা আলিফ হাসপাতালকে অনিয়মের জন্য জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর বাদুরতলা এলাকার এইচআর হসপিটাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























