ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে ৫৫ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার ফলে বিলাসী পণ্য হিসেবে পরিচিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। প্রতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গড়ে এক হাজার ২০০ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খালাস হলেও, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে এই চিত্র পাল্টে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে গাড়ি আমদানি ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে, বিশেষ করে যুদ্ধের পর গত দুই মাসে আমদানি কমেছে ৫৫ শতাংশের বেশি। আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরের কারশেডগুলো বর্তমানে অনেকটাই খালি পড়ে থাকছে। বন্দর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৪ হাজার ১৬৪ ইউনিট রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছিল, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৫৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল।

তবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও, এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিতে ছন্দপতন ঘটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিলে গাড়ি আমদানি ৫৫.৯৫ শতাংশ কমেছে। গত বছরের এই দুই মাসে যেখানে দুই হাজার ৮১৭টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল, সেখানে এই বছর মার্চে ৪৯৭ ইউনিট এবং এপ্রিলে মাত্র ৭৪৪ ইউনিট গাড়ি এসেছে। ক্যালেন্ডার ইয়ার হিসেবেও দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে চার হাজার ৭২৭টি গাড়ি আমদানি হলেও, এ বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৯১২টি। রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত মার্চ-মে মাস গাড়ি ব্যবসার মৌসুম হিসেবে ধরা হয়, কারণ বাজেটে গাড়ির দাম বৃদ্ধির আগে ক্রেতারা এই সময়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে গাড়ি কিনতে আগ্রহী হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে ৫৫ শতাংশ

আপডেট সময় : ০২:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার ফলে বিলাসী পণ্য হিসেবে পরিচিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। প্রতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গড়ে এক হাজার ২০০ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খালাস হলেও, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে এই চিত্র পাল্টে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে গাড়ি আমদানি ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে, বিশেষ করে যুদ্ধের পর গত দুই মাসে আমদানি কমেছে ৫৫ শতাংশের বেশি। আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরের কারশেডগুলো বর্তমানে অনেকটাই খালি পড়ে থাকছে। বন্দর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৪ হাজার ১৬৪ ইউনিট রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছিল, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৫৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল।

তবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও, এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিতে ছন্দপতন ঘটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিলে গাড়ি আমদানি ৫৫.৯৫ শতাংশ কমেছে। গত বছরের এই দুই মাসে যেখানে দুই হাজার ৮১৭টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল, সেখানে এই বছর মার্চে ৪৯৭ ইউনিট এবং এপ্রিলে মাত্র ৭৪৪ ইউনিট গাড়ি এসেছে। ক্যালেন্ডার ইয়ার হিসেবেও দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে চার হাজার ৭২৭টি গাড়ি আমদানি হলেও, এ বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৯১২টি। রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত মার্চ-মে মাস গাড়ি ব্যবসার মৌসুম হিসেবে ধরা হয়, কারণ বাজেটে গাড়ির দাম বৃদ্ধির আগে ক্রেতারা এই সময়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে গাড়ি কিনতে আগ্রহী হন।