ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

রায়গঞ্জের ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে চলছে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ওজনে ধান কেনা এবং খাজনার নামে অর্থ ও ধান আদায়ের মহোৎসব। সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি হাটে আড়তদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে তাদের সর্বস্বান্ত করছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ৪০ কেজিতে এক মণ ধান হওয়ার কথা, সেখানে প্রতি মণে দুই থেকে তিন কেজি অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ক্রেতা ও আড়তদারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের কাছে কৃষকরা জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ইজারাদাররা খাজনা বাবদ নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রতি মণ ধানে দেড় থেকে দুই কেজি অতিরিক্ত ধান আদায় করছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও প্রশাসনের নীরবতা এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক জানান, সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম সেভাবে বাড়েনি। এর ওপর এই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে তাদের লাভের গুড় পিঁপড়ে খাচ্ছে। তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, ঘুড়কা হাটে এক মণ ধানে (৪০ কেজিতে) অতিরিক্ত তিন থেকে চার কেজি ধান বেশি দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, কৃষকদের উৎপাদন খরচই উঠছে না, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মতো কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ

রায়গঞ্জের ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে চলছে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ওজনে ধান কেনা এবং খাজনার নামে অর্থ ও ধান আদায়ের মহোৎসব। সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি হাটে আড়তদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে তাদের সর্বস্বান্ত করছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ৪০ কেজিতে এক মণ ধান হওয়ার কথা, সেখানে প্রতি মণে দুই থেকে তিন কেজি অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ক্রেতা ও আড়তদারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের কাছে কৃষকরা জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ইজারাদাররা খাজনা বাবদ নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রতি মণ ধানে দেড় থেকে দুই কেজি অতিরিক্ত ধান আদায় করছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও প্রশাসনের নীরবতা এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক জানান, সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম সেভাবে বাড়েনি। এর ওপর এই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে তাদের লাভের গুড় পিঁপড়ে খাচ্ছে। তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, ঘুড়কা হাটে এক মণ ধানে (৪০ কেজিতে) অতিরিক্ত তিন থেকে চার কেজি ধান বেশি দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, কৃষকদের উৎপাদন খরচই উঠছে না, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মতো কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।