ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের চেষ্টা, বহিরাগত অভিযুক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন জঙ্গলে টেনে নিয়ে গণধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের বর্ধিতাংশ, পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে রুমাল বা দড়িসদৃশ কিছু দিয়ে ভুক্তভোগীর গলায় পেঁচিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন-সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। তখন তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীর ও কাপড়ে মাটি লেগে ছিল বলে জানান তারা।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে খবর দেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে নিরাপত্তা অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আসুক।’ তিনি এ ধরনের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধাক্কা: বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেলেন বালের্দি, স্থলাভিষিক্ত সেনেসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের চেষ্টা, বহিরাগত অভিযুক্ত

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন জঙ্গলে টেনে নিয়ে গণধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের বর্ধিতাংশ, পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে রুমাল বা দড়িসদৃশ কিছু দিয়ে ভুক্তভোগীর গলায় পেঁচিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন-সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। তখন তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীর ও কাপড়ে মাটি লেগে ছিল বলে জানান তারা।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে খবর দেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে নিরাপত্তা অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আসুক।’ তিনি এ ধরনের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন।