ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভাইরাল হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা: কোন পথে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম?

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার নেশা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিউ আর লাইকের আশায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিতর্কিত সব পথ। গভীর রাতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে অদ্ভুত সব থাম্বনেইল আর চমকপ্রদ শিরোনামের ভিডিও, যার বড় অংশই তৈরি হচ্ছে শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যালগরিদম-নির্ভর এই ডিজিটাল দুনিয়ায় মনোযোগ আকর্ষণই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে অনেক কনটেন্ট নির্মাতাই সামাজিক রীতিনীতি বা নৈতিকতার তোয়াক্কা করছেন না। রাস্তায় বিপজ্জনক স্টান্ট করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ফাঁস করা—সবই চলছে অবলীলায়। এমনকি প্র্যাঙ্কের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার ঘটনাও এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। লাইক ও ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করতে গিয়ে অনেকেই বিষণ্নতা ও হতাশায় ভুগছেন। ভার্চুয়াল জগতের পরিচিতিকে বাস্তব জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, এর মাঝেও অনেক সৃজনশীল তরুণ শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন। তবে সুস্থ ধারার এই কনটেন্টগুলো প্রায়ই বিতর্কিত ভিডিওর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নীতিমালা এবং পারিবারিক সচেতনতা না বাড়লে এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সংকটের কারণ হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৮ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

ভাইরাল হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা: কোন পথে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম?

আপডেট সময় : ০১:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার নেশা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিউ আর লাইকের আশায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিতর্কিত সব পথ। গভীর রাতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে অদ্ভুত সব থাম্বনেইল আর চমকপ্রদ শিরোনামের ভিডিও, যার বড় অংশই তৈরি হচ্ছে শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যালগরিদম-নির্ভর এই ডিজিটাল দুনিয়ায় মনোযোগ আকর্ষণই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে অনেক কনটেন্ট নির্মাতাই সামাজিক রীতিনীতি বা নৈতিকতার তোয়াক্কা করছেন না। রাস্তায় বিপজ্জনক স্টান্ট করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ফাঁস করা—সবই চলছে অবলীলায়। এমনকি প্র্যাঙ্কের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার ঘটনাও এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। লাইক ও ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করতে গিয়ে অনেকেই বিষণ্নতা ও হতাশায় ভুগছেন। ভার্চুয়াল জগতের পরিচিতিকে বাস্তব জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, এর মাঝেও অনেক সৃজনশীল তরুণ শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন। তবে সুস্থ ধারার এই কনটেন্টগুলো প্রায়ই বিতর্কিত ভিডিওর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নীতিমালা এবং পারিবারিক সচেতনতা না বাড়লে এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সংকটের কারণ হতে পারে।