বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংকট, উচ্চ সুদহার, খেলাপি ঋণ শ্রেণিকরণ নীতি এবং কর্মমূলধন সংকট নিরসনে নীতিগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সংগঠনটির প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
সাক্ষাৎ শেষে বিসিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি হস্তান্তর করা হয়, যেখানে দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সাত দফা সুপারিশ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংকট নিরসন একটি প্রধান দাবি। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজার এখনও পর্যাপ্তভাবে উন্নত না হওয়ায় শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থায় ১২ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ নতুন অর্থায়ন কাঠামো প্রবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে রিফাইন্যান্সিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং অপেক্ষাকৃত কম সুদে অফশোর ফান্ড ব্যবহার করার সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগ অংশীদারদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিসিআই কর্মমূলধন ও ঋণ শ্রেণিকরণ নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মমূলধন সংকটে ভুগছে বলে বিসিআই জানিয়েছে।
এ অবস্থায় শিল্পখাতের কর্মমূলধন সুবিধা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এলসি (Letter of Credit) সংশ্লিষ্ট বকেয়া অর্থকে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ না হয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনেরও দাবি জানানো হয়, যেখানে বর্তমানে তিন মাসে ঋণ শ্রেণিকরণ করা হয়, যা শিল্পখাতের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























