ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত: স্বজনদের আহাজারি, বিচার দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সীমান্তে এমন বর্বরোচিত ঘটনা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে ধ্বজনগর গ্রামের কলেজছাত্র মো. মোরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪২) নিহত হন। একই ঘটনায় কমপক্ষে আরও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত দুই যুবকের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনরা এই ঘটনার জন্য স্থানীয় চোরাকারবারিদের দায়ী করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। মোরসালিনের বাবা হেবযু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে প্রতিবেশী মাদক কারবারিরা রাতে এসে ডেকে নিয়ে গেছে। পরের দিন খবর পাই বিএসএফের গুলিতে সে মারা গেছে। আমার ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। তাকে প্রলোভন দিয়ে চোরাকারবারিরা নিয়ে গেছে। আমি তাদের বিচার চাই। সীমান্তের ওপারে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

নবীর হোসেনের মা জাহেরা খাতুন ছেলের মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন এবং যারা তার ছেলেকে সীমান্তের ওপারে যেতে সহযোগিতা করেছে, তাদেরও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়ে সমবেদনা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৮ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত: স্বজনদের আহাজারি, বিচার দাবি

আপডেট সময় : ০৯:২৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সীমান্তে এমন বর্বরোচিত ঘটনা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে ধ্বজনগর গ্রামের কলেজছাত্র মো. মোরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪২) নিহত হন। একই ঘটনায় কমপক্ষে আরও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত দুই যুবকের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনরা এই ঘটনার জন্য স্থানীয় চোরাকারবারিদের দায়ী করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। মোরসালিনের বাবা হেবযু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে প্রতিবেশী মাদক কারবারিরা রাতে এসে ডেকে নিয়ে গেছে। পরের দিন খবর পাই বিএসএফের গুলিতে সে মারা গেছে। আমার ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। তাকে প্রলোভন দিয়ে চোরাকারবারিরা নিয়ে গেছে। আমি তাদের বিচার চাই। সীমান্তের ওপারে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

নবীর হোসেনের মা জাহেরা খাতুন ছেলের মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন এবং যারা তার ছেলেকে সীমান্তের ওপারে যেতে সহযোগিতা করেছে, তাদেরও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়ে সমবেদনা জানান।