যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর নিজ দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরেই তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের অন্তত ৭০ জন সংসদ সদস্য তার পদত্যাগ দাবি করলেও তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই ক্ষমতা ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। স্টারমার স্পষ্ট করেন যে, লেবার পার্টিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার বর্তমানে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, কারণ সরকারের এক জুনিয়র মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও তাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতা পরিবর্তনের জন্য অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির লিখিত সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বিরোধীরা এখনো সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি এবং স্টারমারের বিকল্প হিসেবে একক কোনো নেতার নাম নিয়েও দলে এখনো ঐক্যমত তৈরি হয়নি। যদিও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাঞ্জেলা রায়নার ও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো নেতাদের নাম আলোচনায় আসছে।
পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে স্টারমার যুক্তি দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। কনজারভেটিভ আমলের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার আরও সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু দারিদ্র্য হ্রাস, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএস-এর সংকট মোকাবিলায় তিনি কাজ চালিয়ে যেতে চান।
রিপোর্টারের নাম 





















