ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভয়ংকর পরিস্থিতিতে জীবন উৎসর্গের সিদ্ধান্ত: এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান

ভয়াবহ এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাশি থাকালি স্থির হয়ে বসে আছেন। নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এমন নীরবতার মাঝে তিনি নিজের মনেই বলে চলেছেন, ‘একজনকে উৎসর্গ করতেই হবে; নইলে পাঁচজন একসাথে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তার কথা শুনে উপস্থিত সকলে আতঙ্কে কাঁপতে থাকে।

অবশেষে নীরবতা ভেঙে মাহির নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা বলেন, যদি তার রক্তে দলের সবাই মুক্তি পায়। মাহিরের এই কথায় তার চার সঙ্গী হতবাক হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে মর নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা বলতে পারেন। তাশি থাকালি তখন কাঁপা গলায় বলেন, ‘ভয়ংকর একটা শক্তি আমাদের ঘিরে ফেলেছে। একজনকে এখুনি উৎসর্গ না করলে মারাত্মক কিছু ঘটবে।’ মাহির তখন মাথা উঁচু করে বলেন, ‘আমি প্রস্তুত।’

মাহিরের কথা শেষ না হতেই ঘরের মেঝে জুড়ে এক ধরনের কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, যেন তার কথারই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে কেউ। নিলেশ রাওয়াত মাহিরকে এই পাগলামো থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং অন্য কোনো পথ খোঁজার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি দেবতা রক্ত চায়, তবে তা তাদের কারো নয়, বরং এই বৃদ্ধের হবে। কারণ এই বৃদ্ধ তাদের ফাঁদে ফেলেছে এবং তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

নিলেশের কথায় অন্যদের মাঝে সাহস সঞ্চার হয়। ভয় তাদের গ্রাস করলেও, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। তারা অভিশপ্ত দেবতার ভয়, তান্ত্রিকের কথা কিংবা বৃদ্ধ তাশি থাকালির হিংস্রতা ভুলে গিয়ে সাহসী হয়ে দাঁড়ায়। তারা একে অপরের দিকে দৃঢ় সংকেত দেয়—আজ তারা লড়বে, পালাবে না।

তাশি থাকালি তখনো এক অদ্ভুত হাসি মুখে নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ভাবছ আমাকে উৎসর্গ করলে মুক্তি পাবে? ভুল করছ। দেবতা তোমাদের রক্তই চায়, আমার না। আমি শুধু পথ দেখিয়েছি।’ তার এই কথায় দলের সদস্যরা থমকে গেলেও নিলেশ রাওয়াত দাঁতে দাঁত চেপে বলেন, ‘তুমি আমাদের ধোঁকা দিয়েছ।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁওয়ে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ১৭ বছরের কিশোর মেকানিক

ভয়ংকর পরিস্থিতিতে জীবন উৎসর্গের সিদ্ধান্ত: এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান

আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ভয়াবহ এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাশি থাকালি স্থির হয়ে বসে আছেন। নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এমন নীরবতার মাঝে তিনি নিজের মনেই বলে চলেছেন, ‘একজনকে উৎসর্গ করতেই হবে; নইলে পাঁচজন একসাথে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তার কথা শুনে উপস্থিত সকলে আতঙ্কে কাঁপতে থাকে।

অবশেষে নীরবতা ভেঙে মাহির নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা বলেন, যদি তার রক্তে দলের সবাই মুক্তি পায়। মাহিরের এই কথায় তার চার সঙ্গী হতবাক হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে মর নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা বলতে পারেন। তাশি থাকালি তখন কাঁপা গলায় বলেন, ‘ভয়ংকর একটা শক্তি আমাদের ঘিরে ফেলেছে। একজনকে এখুনি উৎসর্গ না করলে মারাত্মক কিছু ঘটবে।’ মাহির তখন মাথা উঁচু করে বলেন, ‘আমি প্রস্তুত।’

মাহিরের কথা শেষ না হতেই ঘরের মেঝে জুড়ে এক ধরনের কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, যেন তার কথারই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে কেউ। নিলেশ রাওয়াত মাহিরকে এই পাগলামো থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং অন্য কোনো পথ খোঁজার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি দেবতা রক্ত চায়, তবে তা তাদের কারো নয়, বরং এই বৃদ্ধের হবে। কারণ এই বৃদ্ধ তাদের ফাঁদে ফেলেছে এবং তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

নিলেশের কথায় অন্যদের মাঝে সাহস সঞ্চার হয়। ভয় তাদের গ্রাস করলেও, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। তারা অভিশপ্ত দেবতার ভয়, তান্ত্রিকের কথা কিংবা বৃদ্ধ তাশি থাকালির হিংস্রতা ভুলে গিয়ে সাহসী হয়ে দাঁড়ায়। তারা একে অপরের দিকে দৃঢ় সংকেত দেয়—আজ তারা লড়বে, পালাবে না।

তাশি থাকালি তখনো এক অদ্ভুত হাসি মুখে নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ভাবছ আমাকে উৎসর্গ করলে মুক্তি পাবে? ভুল করছ। দেবতা তোমাদের রক্তই চায়, আমার না। আমি শুধু পথ দেখিয়েছি।’ তার এই কথায় দলের সদস্যরা থমকে গেলেও নিলেশ রাওয়াত দাঁতে দাঁত চেপে বলেন, ‘তুমি আমাদের ধোঁকা দিয়েছ।’