ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা: এক চিরন্তন আশ্রয় ও সমাজের নির্মম বাস্তবতা

‘মা’ শব্দটি কেবল একটি অক্ষর নয়, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর, বিস্তৃত ও আবেগময় সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। সন্তানের জন্য মায়ের চেয়ে বড় কোনো নির্ভরতা, সুরক্ষা বা ভালোবাসার আশ্রয় আর নেই। সন্তান যতই ভুল করুক না কেন, মায়ের হৃদয় তাকে দূরে ঠেলে দিতে পারে না; এ এক অদৃশ্য, অটুট মায়ার বন্ধন। পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলেও মায়ের দোয়ার প্রদীপ সন্তানের মাথার ওপর চিরকাল জ্বলতে থাকে, যা তাকে পথ দেখায় ও রক্ষা করে।

মায়ের চেয়ে মধুর কোনো শব্দ বা পবিত্র কোনো সম্পর্ক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। সন্তানের সঙ্গে মায়ের এই নাড়িছেঁড়া বন্ধন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। তবুও, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে বিশ্বের সব মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতি বছর পালিত হয় ‘বিশ্ব মা দিবস’। কিন্তু দিবস উদযাপনের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি মায়ের নিঃশর্ত ও সীমাহীন ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে পারছি?

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় আমরা মায়ের এই ভালোবাসার প্রতি সুবিচার করতে পারি না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও দেখা গিয়েছিল, যেখানে এক সন্তান তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করায় গ্রামের মানুষ সালিশ বসিয়েছিল। মুরব্বিরা তাকে মায়ের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বললেও সে রাজি হয়নি। পরে যখন সালিশে তাকে বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত হয় এবং কয়েক ঘা পড়তেই, সেই মা ছুটে এসে সন্তানের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমার ছেলেকে মারবেন না’। এটাই মা – যেখানে সন্তানের সব অপরাধ বিনাশর্তে ক্ষমা হয়ে যায়। মা কেবল একজন ব্যক্তি নন, মা পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ আদালত, এক বিশাল বটবৃক্ষের মতো, যার শীতল ছায়া তপ্ত রোদে সন্তানকে প্রশান্তি দেয়। আব্রাহাম লিংকনের ভাষায়, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়।’ সত্যিই, মা এক চিরন্তন আশ্রয়স্থল।

১৯১৪ সালে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, মাতৃত্বের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আদিকাল থেকেই বহমান। তবে এই গভীর আবেগের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম বাস্তবতা – আমাদের সমাজের বৃদ্ধাশ্রমগুলো। যে মা নিজের রক্তবিন্দু দিয়ে সন্তানকে তিল তিল করে বড় করেছেন, জীবনের শেষ সময়ে তাকেই আশ্রয় নিতে হয় চার দেয়ালের এক নির্জন কক্ষে। সন্তানের অবহেলা বা সময়ের অভাব যখন মাকে ঘরছাড়া করে, তখনও সেই মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের জানালার পাশে বসে থাকা সেই মায়েরা প্রতিদিন সন্তানদের জন্য প্রার্থনা করেন, যা এক অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁওয়ে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ১৭ বছরের কিশোর মেকানিক

মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা: এক চিরন্তন আশ্রয় ও সমাজের নির্মম বাস্তবতা

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

‘মা’ শব্দটি কেবল একটি অক্ষর নয়, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর, বিস্তৃত ও আবেগময় সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। সন্তানের জন্য মায়ের চেয়ে বড় কোনো নির্ভরতা, সুরক্ষা বা ভালোবাসার আশ্রয় আর নেই। সন্তান যতই ভুল করুক না কেন, মায়ের হৃদয় তাকে দূরে ঠেলে দিতে পারে না; এ এক অদৃশ্য, অটুট মায়ার বন্ধন। পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলেও মায়ের দোয়ার প্রদীপ সন্তানের মাথার ওপর চিরকাল জ্বলতে থাকে, যা তাকে পথ দেখায় ও রক্ষা করে।

মায়ের চেয়ে মধুর কোনো শব্দ বা পবিত্র কোনো সম্পর্ক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। সন্তানের সঙ্গে মায়ের এই নাড়িছেঁড়া বন্ধন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। তবুও, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে বিশ্বের সব মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতি বছর পালিত হয় ‘বিশ্ব মা দিবস’। কিন্তু দিবস উদযাপনের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি মায়ের নিঃশর্ত ও সীমাহীন ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে পারছি?

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় আমরা মায়ের এই ভালোবাসার প্রতি সুবিচার করতে পারি না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও দেখা গিয়েছিল, যেখানে এক সন্তান তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করায় গ্রামের মানুষ সালিশ বসিয়েছিল। মুরব্বিরা তাকে মায়ের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বললেও সে রাজি হয়নি। পরে যখন সালিশে তাকে বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত হয় এবং কয়েক ঘা পড়তেই, সেই মা ছুটে এসে সন্তানের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমার ছেলেকে মারবেন না’। এটাই মা – যেখানে সন্তানের সব অপরাধ বিনাশর্তে ক্ষমা হয়ে যায়। মা কেবল একজন ব্যক্তি নন, মা পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ আদালত, এক বিশাল বটবৃক্ষের মতো, যার শীতল ছায়া তপ্ত রোদে সন্তানকে প্রশান্তি দেয়। আব্রাহাম লিংকনের ভাষায়, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়।’ সত্যিই, মা এক চিরন্তন আশ্রয়স্থল।

১৯১৪ সালে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, মাতৃত্বের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আদিকাল থেকেই বহমান। তবে এই গভীর আবেগের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম বাস্তবতা – আমাদের সমাজের বৃদ্ধাশ্রমগুলো। যে মা নিজের রক্তবিন্দু দিয়ে সন্তানকে তিল তিল করে বড় করেছেন, জীবনের শেষ সময়ে তাকেই আশ্রয় নিতে হয় চার দেয়ালের এক নির্জন কক্ষে। সন্তানের অবহেলা বা সময়ের অভাব যখন মাকে ঘরছাড়া করে, তখনও সেই মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের জানালার পাশে বসে থাকা সেই মায়েরা প্রতিদিন সন্তানদের জন্য প্রার্থনা করেন, যা এক অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত।