বাংলাদেশের নদ-নদী ও সমুদ্রজুড়ে প্রায় সাত শতাধিক প্রজাতির মাছের সমাহার রয়েছে, যার মধ্যে স্বাদু পানির ২৬০টি এবং সামুদ্রিক ৪৭৫টি প্রজাতি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের আয়ের প্রধান উৎস মাছ ধরা, কিন্তু এই বিশাল মৎস্যসম্পদের কত প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে, তা অনেকেরই অজানা।
মৎস্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সমুদ্রগামী জেলেরা গভীর ও অগভীর সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ধরে থাকেন। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত অন্তত ৪০ ধরনের মাছ ধরা হয়। বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর অংশ থেকে সংগৃহীত মাছগুলোর মধ্যে ইলিশ অন্যতম জনপ্রিয়। এছাড়াও রুপচাঁদা, কালোচাঁদা, লইট্টা এবং কোরাল মাছও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ধরা পড়ে। রফতানিযোগ্য মাছ যেমন টুনা, ম্যাকারেল, সুরমা এবং লাক্ষা জেলেদের জালে ওঠে। এছাড়া কালো পোপা, লাল পোপা, সাদা পোপা, ছুরি, ফাইস্যা, তাইল্লা, শাপলাপাতা এবং বাইমের মতো মাছও পাওয়া যায়। বিশেষ করে, জাভা ভোল বা ভোল কোরাল অত্যন্ত মূল্যবান মাছ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নদীর মাছের মধ্যে আইড়, বাগাড়, রিটা, বোয়াল, রুই, কাতলা, পাঙাশ, চিতল, চিংড়ি, কাঁকড়া, হাঙর, পাবদা, গুলশা, চেওয়া, বউরানি, ট্যাংরা, কাকিলা, বাটা, বেলে, তপসে, ফলি, বৈরালী, মেনি, শোল, গজার, পুঁটি, মলা, ঢেলা, কাঁচকি, চান্দা, চেলা, শিং, মাগুর এবং কই উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ ছাড়াও পদ্মা-মেঘনায় আরও অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়। পদ্মা নদী মাছের প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি অঞ্চল। বহু নদী-খাল পদ্মার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং বড় বড় বিলের সংযোগ থাকায় এখানে মাছের প্রাচুর্য দেখা যায়।
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর ২০১৪ সালের একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল পদ্মা। এর মধ্যে কাকিলা (কাইক্কা), ফাসা, কাচকি, চাপিলা, খয়রা, রানি (বউ মাছ), পুইয়া (গুতুম), পইয়া (পুইয়া), মলা (মোয়া), পিয়লি (জয়া), মোরারি, কাতলা, মৃগেল, রাইখোর (রেবা), বাঁশপাতা, বাটা, ভাঙ্গান, কালবাউশ, নান্দিনা, রুই, চেলা, চেলা (কাটারি), ঢেলা, চোলাপুঁটি, কাঞ্চনপুঁটি, সরপুঁটি, জাতপুঁটি, ভাতপুঁটি, তিতপুঁটি, ডারকিনা (ডারকা), খরশোলা, চিতল, ফলৈ, চান্দা, লম্বা চান্দা, রাঙা চান্দা, কই, নাপিত কই, গজার, গাছুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
রিপোর্টারের নাম 



















