ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার বিজয়পুরে মৃৎশিল্পের বিশ্বজয়: সংকটের মুখেও টিকে থাকার লড়াই

কুমিল্লার বিজয়পুরে মাত্র ২২ টাকা ৫০ পয়সা মূলধন নিয়ে শুরু হওয়া মৃৎশিল্প আজ বিশ্ববাজারে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানের অনুপ্রেরণায় ১৯৬১ সালে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পটি আজ ১০ কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে। তবে বর্ণিল এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংসলীলার শিকার হয়েও ১৯৭২ সালে সরকারি সহায়তায় নতুন করে পথচলা শুরু করে এই পল্লী।

বর্তমানে বিজয়পুর সংলগ্ন সাতটি গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে এক সময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প এখন তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় আধুনিক পদ্ধতির পরিবর্তে এখন সনাতন পদ্ধতিতে খড় ও লাকড়ি দিয়ে মাটি পোড়াতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না কারিগররা। ফলে স্বল্প বেতনে জীবনযুদ্ধে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার শ্রমিকরা।

প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটের মাঝেও ঐতিহ্যের টানে এখনো কাঠের চাকায় মাটি ঘুরিয়ে চলেছেন কুমারেরা। প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই প্রাচীন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে আরও জোরালো উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ফুটবল দলের রাজকীয় সংবর্ধনা: মাদ্রিদের রাজপথে লাখো মানুষের উল্লাস

কুমিল্লার বিজয়পুরে মৃৎশিল্পের বিশ্বজয়: সংকটের মুখেও টিকে থাকার লড়াই

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার বিজয়পুরে মাত্র ২২ টাকা ৫০ পয়সা মূলধন নিয়ে শুরু হওয়া মৃৎশিল্প আজ বিশ্ববাজারে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানের অনুপ্রেরণায় ১৯৬১ সালে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পটি আজ ১০ কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে। তবে বর্ণিল এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংসলীলার শিকার হয়েও ১৯৭২ সালে সরকারি সহায়তায় নতুন করে পথচলা শুরু করে এই পল্লী।

বর্তমানে বিজয়পুর সংলগ্ন সাতটি গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে এক সময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প এখন তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় আধুনিক পদ্ধতির পরিবর্তে এখন সনাতন পদ্ধতিতে খড় ও লাকড়ি দিয়ে মাটি পোড়াতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না কারিগররা। ফলে স্বল্প বেতনে জীবনযুদ্ধে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার শ্রমিকরা।

প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটের মাঝেও ঐতিহ্যের টানে এখনো কাঠের চাকায় মাটি ঘুরিয়ে চলেছেন কুমারেরা। প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই প্রাচীন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে আরও জোরালো উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।