ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

‘অ্যাম্বুলেন্স আটকে না রাখলে বেঁচে থাকত আমার ছেলে’: শহীদ ইমরানের পরিবারের আর্তনাদ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৬ বছর বয়সী হাফেজ মোনায়েলে আহমেদ ইমরানের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় তার নিজ বাড়িতে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হলেও স্বজনদের মনে এখনো বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়া এবং শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকায় আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরিবারের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ ইমরানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও রায়েরবাগ এলাকায় পুলিশ প্রায় আধা ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমরানের মা ইয়াসমিন আক্তারের দাবি, পুলিশ যদি সেদিন অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা না দিত, তবে হয়তো তার সন্তান আজ বেঁচে থাকত।

ইমরানের বাবা একজন সাধারণ কৃষক। পরিবারের সদস্যরা জানান, আন্দোলনের ঝুঁকি বুঝে সেদিন ইমরানকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কৌশলে বের হয়ে সে আন্দোলনে যোগ দেয়। পিঠ দিয়ে ঢুকে বুক চিরে বেরিয়ে যাওয়া পুলিশের বুলেটে নিভে যায় এক কিশোর হাফেজের প্রাণ। পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটের পর রাজনৈতিক নেতাদের খোঁজ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তারা আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে বর্ষার দাপট: নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, বন্যার ঝুঁকিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল

‘অ্যাম্বুলেন্স আটকে না রাখলে বেঁচে থাকত আমার ছেলে’: শহীদ ইমরানের পরিবারের আর্তনাদ

আপডেট সময় : ১০:০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৬ বছর বয়সী হাফেজ মোনায়েলে আহমেদ ইমরানের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় তার নিজ বাড়িতে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হলেও স্বজনদের মনে এখনো বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়া এবং শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকায় আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরিবারের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ ইমরানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও রায়েরবাগ এলাকায় পুলিশ প্রায় আধা ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমরানের মা ইয়াসমিন আক্তারের দাবি, পুলিশ যদি সেদিন অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা না দিত, তবে হয়তো তার সন্তান আজ বেঁচে থাকত।

ইমরানের বাবা একজন সাধারণ কৃষক। পরিবারের সদস্যরা জানান, আন্দোলনের ঝুঁকি বুঝে সেদিন ইমরানকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কৌশলে বের হয়ে সে আন্দোলনে যোগ দেয়। পিঠ দিয়ে ঢুকে বুক চিরে বেরিয়ে যাওয়া পুলিশের বুলেটে নিভে যায় এক কিশোর হাফেজের প্রাণ। পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটের পর রাজনৈতিক নেতাদের খোঁজ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তারা আক্ষেপ প্রকাশ করেন।