কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মরা নদী এখন যেন এক জীবন্ত জলরঙের ছবি। অস্কারজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ির পুকুরঘাট সংলগ্ন এই নদীতে ফুটেছে অগণিত লাল শাপলা। সবুজ পাতার বিস্তীর্ণ চাদরের ওপর লাল শাপলার এই মিতালি চারপাশের পরিবেশে এক মায়াবী রূপ দান করেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও দর্শনার্থী।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের কোমল আলোয় শাপলাগুলো যখন পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হয়, তখন এক স্বর্গীয় আবেশ তৈরি হয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের তাপে পাপড়িগুলো ধীরে ধীরে বুজে আসতে শুরু করে। একসময় বাংলার বিল-ঝিল ও জলাশয়গুলোতে প্রচুর শাপলা দেখা গেলেও জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিতভাবে জলাশয় ভরাটের কারণে এখন তা অনেকটা বিরল হয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীরা এই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলেও প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, শাপলা ও পদ্ম ভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, যা মূলত শ্রাবণ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পূর্ণ যৌবন পায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং এই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য টিকিয়ে রাখতে জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। কটিয়াদীর এই মরা নদীটি বর্তমানে স্থানীয় পর্যটনের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























