ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য রুখতে আইনি লড়াইয়ে জয়া আহসান: জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধের দাবিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণিকল্যাণ কর্মী জয়া আহসান। সোমবার (১১ মে) জয়া আহসান, বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (অভয়ারণ্য) এবং এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ এবং অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।

জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি

রিট আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো অসুস্থ ও জীর্ণ প্রাণীদের জবাই করে সাধারণ মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা। রিটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজীপুরের একটি পরিত্যক্ত তুলা কারখানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একটি অবৈধ জবাইখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬টি অত্যন্ত অসুস্থ ঘোড়া এবং ৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত এসব ঘোড়া প্রচণ্ড অপুষ্টি, উন্মুক্ত ক্ষত এবং টিউমারসহ বিভিন্ন সংক্রমণে ভুগছিল। পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এসব প্রাণীর দেহে যক্ষ্মা এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এই দূষিত ও সংক্রামক জীবাণুযুক্ত মাংস সাধারণ মানুষের কাছে গরুর মাংস বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি।

প্রশাসনের উদাসীনতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা

আবেদনকারীরা আদালতকে জানান, ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাজীপুরে মোবাইল কোর্ট এই বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো বাস্তবায়ন নেই। এমনকি অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো বাজেয়াপ্ত করা অসুস্থ ঘোড়াগুলো পুনরায় নিলামে বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রিটে উল্লিখিত দাবিদাওয়াসমূহ

জয়া আহসান ও অন্যান্য আবেদনকারীরা রিটের মাধ্যমে আদালতের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন:

  • গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যের বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা।
  • আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
  • অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা।
  • উদ্ধারকৃত প্রাণীদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য ‘অভয়ারণ্য’র তত্ত্বাবধানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা।

আবেদনকারীদের দাবি, তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই নিষ্ঠুরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে নিরীহ এই প্রাণীদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধাক্কা: বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেলেন বালের্দি, স্থলাভিষিক্ত সেনেসি

ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য রুখতে আইনি লড়াইয়ে জয়া আহসান: জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধের দাবিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণিকল্যাণ কর্মী জয়া আহসান। সোমবার (১১ মে) জয়া আহসান, বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (অভয়ারণ্য) এবং এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ এবং অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।

জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি

রিট আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো অসুস্থ ও জীর্ণ প্রাণীদের জবাই করে সাধারণ মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা। রিটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজীপুরের একটি পরিত্যক্ত তুলা কারখানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একটি অবৈধ জবাইখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬টি অত্যন্ত অসুস্থ ঘোড়া এবং ৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত এসব ঘোড়া প্রচণ্ড অপুষ্টি, উন্মুক্ত ক্ষত এবং টিউমারসহ বিভিন্ন সংক্রমণে ভুগছিল। পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এসব প্রাণীর দেহে যক্ষ্মা এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এই দূষিত ও সংক্রামক জীবাণুযুক্ত মাংস সাধারণ মানুষের কাছে গরুর মাংস বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি।

প্রশাসনের উদাসীনতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা

আবেদনকারীরা আদালতকে জানান, ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাজীপুরে মোবাইল কোর্ট এই বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো বাস্তবায়ন নেই। এমনকি অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো বাজেয়াপ্ত করা অসুস্থ ঘোড়াগুলো পুনরায় নিলামে বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রিটে উল্লিখিত দাবিদাওয়াসমূহ

জয়া আহসান ও অন্যান্য আবেদনকারীরা রিটের মাধ্যমে আদালতের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন:

  • গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যের বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা।
  • আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
  • অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা।
  • উদ্ধারকৃত প্রাণীদের যথাযথ পরিচর্যার জন্য ‘অভয়ারণ্য’র তত্ত্বাবধানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা।

আবেদনকারীদের দাবি, তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই নিষ্ঠুরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে নিরীহ এই প্রাণীদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা।