ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বরগুনার ২০ হাজার জেলে কার্ডবিহীন: ‘ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই মরতে হবে’

বরগুনার আলী হোসেনের মতো হাজারো জেলে সরকারি কার্ড না পাওয়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলী হোসেন, যিনি ১১ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, এখনও জেলে কার্ড পাননি। এ কারণে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাকে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্ড পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তাকে খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

আলী হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরি। জেলে কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জেলা মৎস্য অধিদফতরে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু কার্ড পাইনি। জেলে কার্ড না থাকায় সরকারি কোনো সহায়তা পাই না। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। শীতের মৌসুমে দস্যুদের ভয়, বর্ষায় ঘূর্ণিঝড়ের ভয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে। এর মধ্যেই চলে জীবন-জীবিকা। বছরে তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। সবমিলিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।’

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৫৬ হাজার জেলের কার্ড রয়েছে, কিন্তু লক্ষাধিক জেলে এখানে বসবাস করেন। জেলে কার্ড অনুযায়ী প্রতি বছর জেলেদের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে, কার্ডবিহীন প্রায় অর্ধলাখ জেলে কোনো ধরনের সহায়তা পান না। সরকার যদি বরাদ্দ বাড়ায়, তবে অন্যদেরও কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।

জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অনেক সময় বাইরের লোকজন অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান, ফলে প্রকৃত জেলেরা কার্ড থেকে বঞ্চিত হন। এই কারণে অনেক জেলে দুঃখ-কষ্টে সংসার চালাতে বাধ্য হন। আলী হোসেনের মতো অন্তত ২০ হাজার প্রকৃত জেলে রয়েছেন, যাদের জরুরি ভিত্তিতে জেলে কার্ড দেওয়া প্রয়োজন।

বরগুনার মাছ ধরার ট্রলারের মাঝি ও জেলে বাবুল মিয়া বলেন, ‘অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা সাগরে মাছ ধরি। আলী হোসেনের মতো প্রায় ২০ হাজার জেলে আছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে জেলে পেশায় থাকলেও কার্ড পাচ্ছেন না। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মৎস্য কর্মকর্তাদের উচিত প্রকৃত জেলেদের বাছাই করে কার্ডের আওতাভুক্ত করা। আমরা মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে দাদনের ওপর টাকা নিয়ে চলি। কোনোভাবেই এই দাদনের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। দুঃখ-কষ্টে বেঁচে আছি। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে অনাহারে শেষ হয়ে যাবো। আর মারা গেলেও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই মরতে হবে। এটাই জেলেদের বর্তমান অবস্থা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে জেলেরা তাদের জীবন অতিবাহিত করছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

বরগুনার ২০ হাজার জেলে কার্ডবিহীন: ‘ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই মরতে হবে’

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বরগুনার আলী হোসেনের মতো হাজারো জেলে সরকারি কার্ড না পাওয়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলী হোসেন, যিনি ১১ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, এখনও জেলে কার্ড পাননি। এ কারণে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাকে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্ড পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তাকে খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

আলী হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরি। জেলে কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জেলা মৎস্য অধিদফতরে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু কার্ড পাইনি। জেলে কার্ড না থাকায় সরকারি কোনো সহায়তা পাই না। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। শীতের মৌসুমে দস্যুদের ভয়, বর্ষায় ঘূর্ণিঝড়ের ভয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে। এর মধ্যেই চলে জীবন-জীবিকা। বছরে তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। সবমিলিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।’

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৫৬ হাজার জেলের কার্ড রয়েছে, কিন্তু লক্ষাধিক জেলে এখানে বসবাস করেন। জেলে কার্ড অনুযায়ী প্রতি বছর জেলেদের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে, কার্ডবিহীন প্রায় অর্ধলাখ জেলে কোনো ধরনের সহায়তা পান না। সরকার যদি বরাদ্দ বাড়ায়, তবে অন্যদেরও কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।

জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অনেক সময় বাইরের লোকজন অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান, ফলে প্রকৃত জেলেরা কার্ড থেকে বঞ্চিত হন। এই কারণে অনেক জেলে দুঃখ-কষ্টে সংসার চালাতে বাধ্য হন। আলী হোসেনের মতো অন্তত ২০ হাজার প্রকৃত জেলে রয়েছেন, যাদের জরুরি ভিত্তিতে জেলে কার্ড দেওয়া প্রয়োজন।

বরগুনার মাছ ধরার ট্রলারের মাঝি ও জেলে বাবুল মিয়া বলেন, ‘অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা সাগরে মাছ ধরি। আলী হোসেনের মতো প্রায় ২০ হাজার জেলে আছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে জেলে পেশায় থাকলেও কার্ড পাচ্ছেন না। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মৎস্য কর্মকর্তাদের উচিত প্রকৃত জেলেদের বাছাই করে কার্ডের আওতাভুক্ত করা। আমরা মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে দাদনের ওপর টাকা নিয়ে চলি। কোনোভাবেই এই দাদনের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। দুঃখ-কষ্টে বেঁচে আছি। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে অনাহারে শেষ হয়ে যাবো। আর মারা গেলেও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই মরতে হবে। এটাই জেলেদের বর্তমান অবস্থা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে জেলেরা তাদের জীবন অতিবাহিত করছে।’