ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ব্যাংক মালিকদের উদ্বেগ: সাবেকদের ফিরতে সুযোগ দেওয়া হলে নতুন সংকট

ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধিত) আইনের একটি ধারায় সাবেক মালিকদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অতীতে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যদি আবার ফিরে আসে, তবে খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএবির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল হাই সরকার বলেন, “সংশোধিত আইনের ধারায় যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তাদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে— এই বিষয় নিয়ে আমরা ভয়ে আছি। অতীতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ফিরে এলে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। ফলে তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে। এতে নতুন সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত।”

বিএবি সভাপতি জানান, বৈঠকে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত আইনের ১৮ (ক) ধারার শর্ত পূরণ ছাড়া সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বর্তমানে চলমান পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল হাই সরকার আরও মন্তব্য করেন যে, নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। তার ভাষ্য, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হলে তা আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ

ব্যাংক মালিকদের উদ্বেগ: সাবেকদের ফিরতে সুযোগ দেওয়া হলে নতুন সংকট

আপডেট সময় : ১১:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধিত) আইনের একটি ধারায় সাবেক মালিকদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অতীতে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যদি আবার ফিরে আসে, তবে খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএবির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল হাই সরকার বলেন, “সংশোধিত আইনের ধারায় যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তাদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে— এই বিষয় নিয়ে আমরা ভয়ে আছি। অতীতে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ফিরে এলে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। ফলে তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে। এতে নতুন সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত।”

বিএবি সভাপতি জানান, বৈঠকে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশোধিত আইনের ১৮ (ক) ধারার শর্ত পূরণ ছাড়া সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বর্তমানে চলমান পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল হাই সরকার আরও মন্তব্য করেন যে, নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। তার ভাষ্য, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হলে তা আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হতো।