রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক মামলা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে সার্জেন্ট বা কর্মকর্তাদের আর হাতে লিখে মামলা দিতে হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। এরপর বিআরটিএ-এর ডাটাবেজ থেকে যানবাহনের মালিকের ঠিকানা সংগ্রহ করে সরাসরি প্রসিকিউশন চিঠি বা এসএমএস পাঠানো হবে। গত এক সপ্তাহে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩ শতাধিক পরীক্ষামূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা প্রতিদিন এক হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট ও এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল এবং গুলশানসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি বসানো হয়েছে। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা বসানোর ফলে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কেও একই ধরনের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই মোবাইল অ্যাপস ও এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য সরাসরি গাড়ির মালিকের কাছে পৌঁছে যাবে এবং অনলাইনেই জরিমানা পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এই উদ্যোগের ফলে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 
























