রংপুরে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও সাধারণ সভা আয়োজনের দাবিতে এবং দখলদারত্বের প্রতিবাদে শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘট পালন করেছেন। তারা সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সাত শ্রমিককে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরের দিকে দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মোটরশ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে রংপুর জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির নাম ব্যবহার করে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দখলদারত্বের মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই সোমবার সকাল ১০টা থেকে শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সাতজন মোটরশ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মোটর শ্রমিকরা রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। অবশেষে দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা। পুলিশ এ ঘটনায় হামলা করে শ্রমিকদের আহত করার দায়ে দুজনকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন। এই সুযোগে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ইউনিয়নের কার্যালয় দখল করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে শ্রমিকদের জিম্মি করা হচ্ছে। হারুন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুরো বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য স্থানে দখলদারত্ব সৃষ্টি করে শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সভা আহ্বান করে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।’
অন্য এক মোটরশ্রমিক নেতা মোখতার হোসেন বলেন, ‘রংপুর জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দখল করে রাখা হয়েছে। বারবার প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
রিপোর্টারের নাম 






















