প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি না পায়, সে বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবিবার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পুলিশ সপ্তাহ আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে।
এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭1 সালের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ এবং অন্যদিকে রাজারবাগের পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ মুক্তিযুদ্ধের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে যারা ইতিহাস পড়েছেন বা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে শুনেছেন, তাদের মনে এই ইতিহাস নিয়ে কিছু প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি ছিল, তা গবেষণার বিষয় হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের রায়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশী অসংখ্য হামলা-মামলা, নির্যাতন এবং অধিকারহারা মানুষ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















