ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তায় বড় সম্প্রসারণ: কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে সরকার, সুবিধাভোগী বাড়ছে প্রায় ১ কোটি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে নতুন এক মাত্রায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এবার শুধু ভাতাভিত্তিক সহায়তা নয়, বরং পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা, কৃষি সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নগদ সহায়তাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখে উন্নীত হবে। এই খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যেখানে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জন্য ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উপকারভোগী ও বরাদ্দ—উভয় ক্ষেত্রেই এটি একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে কেন্দ্র করে সরকার তাদের ‘কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা’র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন।

ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু

সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। মূলত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে একটি একক পরিচয়ের আওতায় এনে নগদ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির সূচনা। আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাচ্ছে। এই হার অপরিবর্তিত থাকলেও উপকারভোগী বৃদ্ধির কারণে আগামী বাজেটে শুধু এই কর্মসূচির জন্যই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা অন্য কোনো সামাজিক ভাতা পাবেন না। অর্থাৎ, কেউ যদি বয়স্ক, বিধবা বা অন্য কোনো ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণ করলে পূর্বের সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। সরকারের ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্তিকরণ সহজ হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়িয়ে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি

সামাজিক নিরাপত্তায় বড় সম্প্রসারণ: কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে সরকার, সুবিধাভোগী বাড়ছে প্রায় ১ কোটি

আপডেট সময় : ০৮:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে নতুন এক মাত্রায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এবার শুধু ভাতাভিত্তিক সহায়তা নয়, বরং পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা, কৃষি সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নগদ সহায়তাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখে উন্নীত হবে। এই খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যেখানে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জন্য ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উপকারভোগী ও বরাদ্দ—উভয় ক্ষেত্রেই এটি একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে কেন্দ্র করে সরকার তাদের ‘কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা’র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন।

ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু

সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। মূলত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে একটি একক পরিচয়ের আওতায় এনে নগদ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির সূচনা। আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাচ্ছে। এই হার অপরিবর্তিত থাকলেও উপকারভোগী বৃদ্ধির কারণে আগামী বাজেটে শুধু এই কর্মসূচির জন্যই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা অন্য কোনো সামাজিক ভাতা পাবেন না। অর্থাৎ, কেউ যদি বয়স্ক, বিধবা বা অন্য কোনো ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণ করলে পূর্বের সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। সরকারের ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্তিকরণ সহজ হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়িয়ে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।