ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের সংকট: সরকারি ধান সংগ্রহে আর্দ্রতার শর্তে বিপাকে কৃষক

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধান চাষিদের মধ্যে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, আর যেগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো রোদের অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও কঠোর আর্দ্রতার শর্তের কারণে কৃষকরা তাদের ভেজা ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার কৃষক। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৩ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিক সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাকি ধান কাটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৪ শতাংশ আর্দ্রতার বাধ্যবাধকতা কৃষকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের দাবি, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ধান সংগ্রহের শর্ত শিথিল করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঋণের বোঝা নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন হাওরের প্রান্তিক চাষিরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইপিএলের মেগা ফাইনাল আহমেদাবাদে, চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করল বিসিসিআই

হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের সংকট: সরকারি ধান সংগ্রহে আর্দ্রতার শর্তে বিপাকে কৃষক

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধান চাষিদের মধ্যে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, আর যেগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো রোদের অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও কঠোর আর্দ্রতার শর্তের কারণে কৃষকরা তাদের ভেজা ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার কৃষক। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৩ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিক সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাকি ধান কাটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৪ শতাংশ আর্দ্রতার বাধ্যবাধকতা কৃষকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের দাবি, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ধান সংগ্রহের শর্ত শিথিল করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঋণের বোঝা নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন হাওরের প্রান্তিক চাষিরা।