ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

টেকনাফের সংরক্ষিত বনে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ: হুমকির মুখে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য

কক্সবাজারের টেকনাফে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে বিশালাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটের নয়াপড়া এলাকায় এই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে। মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও এটি বনের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, টেকনাফের এই বনাঞ্চল প্রায় ২৮৬ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। ক্যাম্পের সম্প্রসারণ এবং মানুষের অবাধ বিচরণে বন্যপ্রাণীরা এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এখন বনের ভেতরে ১০ ফুট উচ্চতার এই প্রাচীর নির্মাণ করা হলে প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ রুদ্ধ হবে। অনেক বিরল প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো ধরণের বড় স্থাপনা তৈরির আগে ‘এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এই ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের আগে আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পরিবেশ গবেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে এজলাসে বিচারকের ছোড়া পেপারওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত

টেকনাফের সংরক্ষিত বনে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ: হুমকির মুখে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য

আপডেট সময় : ০২:২৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে বিশালাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটের নয়াপড়া এলাকায় এই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে। মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও এটি বনের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, টেকনাফের এই বনাঞ্চল প্রায় ২৮৬ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। ক্যাম্পের সম্প্রসারণ এবং মানুষের অবাধ বিচরণে বন্যপ্রাণীরা এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এখন বনের ভেতরে ১০ ফুট উচ্চতার এই প্রাচীর নির্মাণ করা হলে প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ রুদ্ধ হবে। অনেক বিরল প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো ধরণের বড় স্থাপনা তৈরির আগে ‘এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এই ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের আগে আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পরিবেশ গবেষকরা।