চরম দারিদ্র্য আর অভাবকে জয় করে ভাগ্যের চাকা বদলে ফেলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার নাজমুল ইসলাম। এক সময় অন্যের বাগানে মাসিক মাত্র তিন হাজার টাকা বেতনে শ্রমিকের কাজ করা নাজমুল আজ নিজেই একটি সফল ফুল খামারের মালিক। তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম এখন এলাকার বেকার যুবকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাজমুলের এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটি ফুলের বাগানে কাজ করতে গিয়েই তিনি এই চাষাবাদের আদ্যোপান্ত শিখে নেন। মাটি তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও বাজারজাতকরণ—প্রতিটি বিষয়ে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর পর ২০১৫ সালে নিজ গ্রামে ফিরে এসে মাত্র ১০ শতক জমিতে শুরু করেন গোলাপ চাষ। শুরুতে অনেকে তাকে নিরুৎসাহিত করলেও প্রথম বছরেই আশাতীত লাভে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।
বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে নাজমুলের বিশাল ফুলের বাগান। সেখানে শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গোলাপ, গাঁদা, জিনিয়া ও গ্লাডিওলাস। প্রতি বছর ফুল বিক্রি করে তার নিট আয় এখন পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ওপরে। শুধু নিজের স্বচ্ছলতাই নয়, নাজমুল তার বাগানে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগও করে দিয়েছেন। উন্নত মানের ফুলের কারণে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরাও এখন সরাসরি তার বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























