ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, কোনো জালেম বা অত্যাচারী শাসক কখনো দীর্ঘস্থায়ী হননি। ক্ষমতা ও দম্ভ প্রায়শই ক্ষণস্থায়ী হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তা বিলুপ্ত হয়। রাতের পর যেমন দিন আসে, তেমনি অন্ধকারের পর যেমন আলো আসে, তেমনই পৃথিবীতে ন্যায়পরায়ণতার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় যখন অত্যাচারীর শক্তি লোপ পায়।
ফেরাউনের স্বৈরশাসন এর এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তার অত্যাচারমূলক শাসনের অবসান এক ন্যায়পরায়ণ শাসকের আবির্ভাবের পূর্বাভাস দিয়েছিল। পবিত্র কোরআনে ফেরাউনের অনিবার্য ধ্বংসের সংবাদের সঙ্গে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার সুসংবাদও এসেছে। ফেরাউন কর্তৃক পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ, মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা এবং এক শ্রেণিবিশেষকে দুর্বল করে রাখার ফলে সে পৃথিবীতে ‘অনর্থ সৃষ্টিকারী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছিল। অবশেষে আল্লাহতায়ালা যাদের দুর্বল করে রেখেছিলেন, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং পৃথিবীর নেতৃত্ব তাদের হাতে এলো।
কোরআন বলছে, পৃথিবীটা যেন জাঁকজমক ও শক্তি-প্রতিপত্তি দেখানোর কেন্দ্রস্থল, সেই সঙ্গে দুর্বলদের নিধনের যজ্ঞশালা। শক্তিশালী জাতি দুর্বল জাতিকে দাস বানিয়ে রাখে, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দল ও শ্রেণিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে দেয় না। কারণ, তারা সংহত হয়ে গেলে আর দুর্বল থাকবে না, ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং জালিমের তখত উল্টিয়ে ফেলবে। মিসরের বনি ইসরাইলদের ইতিহাস এর এক নজির।
আবার এমনও হয়, যখন অত্যাচার ও অহংকার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন পৃথিবীটা শক্তিশালীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বলদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখন যে মাটিতে দুর্বলকে বলিদান করা হতো, সেখানে সবলদের নিধনযজ্ঞ গড়ে তোলা হয়। এভাবেই কালের পরিক্রমায় ক্ষমতার দম্ভ কেবলই ক্ষণস্থায়ী প্রমাণের ইতিহাস রচিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























