ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ ও আদর্শিক সংঘাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিজ দলের আদর্শ গোপন করে অন্য দলে ভিড়ে যাওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের। রাজনীতির ভাষায় একে ‘এন্ট্রিজম’ বা অনুপ্রবেশ বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতা কৌশলগত কারণে বড় দলগুলোতে যোগ দিয়েছেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বা আশির দশকে মস্কোপন্থী বাম নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। তৎকালীন সময়ে একে ‘কমিউনিস্ট অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

একইভাবে বিএনপি গঠনের সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাম ও ডান—উভয় মেরু থেকেই নেতাদের দলে টেনেছিলেন। অনেক বামপন্থী নেতা তাদের পূর্বের পরিচয় আড়াল করে মূলধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেন। এসব অনুপ্রবেশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের মতাদর্শের প্রভাব বিস্তার করা। তবে ক্ষমতার রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে অনেক সময় আদর্শিক লক্ষ্য গৌণ হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ধরে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বড় দলগুলোর আদর্শিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বমঞ্চে তমা রশিদের ঐতিহাসিক জয়: ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ ও আদর্শিক সংঘাত

আপডেট সময় : ১০:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিজ দলের আদর্শ গোপন করে অন্য দলে ভিড়ে যাওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের। রাজনীতির ভাষায় একে ‘এন্ট্রিজম’ বা অনুপ্রবেশ বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতা কৌশলগত কারণে বড় দলগুলোতে যোগ দিয়েছেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বা আশির দশকে মস্কোপন্থী বাম নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। তৎকালীন সময়ে একে ‘কমিউনিস্ট অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

একইভাবে বিএনপি গঠনের সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাম ও ডান—উভয় মেরু থেকেই নেতাদের দলে টেনেছিলেন। অনেক বামপন্থী নেতা তাদের পূর্বের পরিচয় আড়াল করে মূলধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেন। এসব অনুপ্রবেশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের মতাদর্শের প্রভাব বিস্তার করা। তবে ক্ষমতার রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে অনেক সময় আদর্শিক লক্ষ্য গৌণ হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ধরে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বড় দলগুলোর আদর্শিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে অনিশ্চিত করে তুলছে।