বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় এবং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই জাদুঘরে এখন পর্যন্ত কোনো জনবল নিয়োগ করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজে প্রদর্শিত দৃশ্যটি কোনো ইন্টারভিউ বা ভাইভা ছিল না, বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে। জনবল নিয়োগে ‘বাণিজ্য’ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তারা জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত নন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বদলি করা হয়েছে।
ছয় মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যকে বানোয়াট দাবি করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৮ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের আপ্যায়ন বাবদ দৈনিক গড় খরচ মাত্র ১২ হাজার ২৩৮ টাকা।
টিনের বাউন্ডারি স্থাপনে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেই অর্থ জাতীয় জাদুঘর ব্যয় করেনি; বরং এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকার একটি অংশ যা তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর কেবল প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রকল্পে মূল অবকাঠামোগত কাজে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯টি থিমে ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ভাস্কর্য, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান, আয়নাঘর ও কিউরেটিং-সহ অন্যান্য কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা কাজের পরিধি বিবেচনায় বাস্তবসম্মত।
রিপোর্টারের নাম 




















