ছলচাতুরী করে সংস্কারকে ভিন্ন পথে চালিত করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নই সরকারের দায়িত্ব। সংবিধান সংশোধন একটি রুটিন ওয়ার্ক। কখন কী করবে, এটার জন্য আবার কমিটি গঠন—এই প্রক্রিয়ায় আমরা যাব কিনা, সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছি। কারণ আমরা সংস্কার চাই। সংস্কারের জন্যই মানুষ ভোট দিয়েছে। এখানে ছলচাতুরী করে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরও জনমত তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে ৭টি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ সময় প্রায় আড়াই মাসব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ১১ দলের বৈঠকে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















