বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাসে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল এক রক্তক্ষরণী অধ্যায়। সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের স্মৃতি আজ তিন দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও উপকূলীয় মানুষের হৃদয়ে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে। প্রকৃতির সেই রুদ্রমূর্তির কাছে মানুষের অসহায়ত্ব আর বেঁচে থাকার তীব্র আকুতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই দিনটি।
ভয়াল সেই রাতে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি থাকলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা শুরুতে অনেকেই আঁচ করতে পারেননি। গোধূলি লগ্নে আকাশের গুমট ভাব আর বাতাসের অদ্ভুত গর্জন এক অজানা শঙ্কার বার্তা দিচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ ও জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা সব সীমানা ছাড়িয়ে যায়। নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোতেও সেদিন কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যা প্রকৃতির অসীম ধ্বংসাত্মক শক্তিরই পরিচয় দেয়।
সেই কালরাতে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে সমুদ্রের ঢেউ যখন লোকালয় গ্রাস করছিল, তখন হাজার হাজার মানুষের আর্তনাদ বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোরের আলো ফুটলে দেখা যায় এক ধ্বংসস্তূপ—যেখানে স্বজন হারানো মানুষের কান্না আর প্রকৃতির তাণ্ডবের চিহ্ন সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে এই দিনটি আজও এক গভীর শোক ও সতর্কবার্তার নাম হয়ে টিকে আছে।
রিপোর্টারের নাম 

























