ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

অর্থনীতির অদৃশ্য শক্তি: বাংলাদেশে নারী শ্রমের অবমূল্যায়ন ও বাস্তবতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী শ্রমের বিষয়টি আজও অনেকাংশে অবহেলিত। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএন উইমেনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নারীদের করা অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৮.৯ শতাংশ। রান্না, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেবল ‘পারিবারিক দায়িত্ব’ হিসেবে গণ্য করায় এই শ্রম জাতীয় আয়ের মূল ধারায় অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একজন গৃহিণীর দৈনিক শ্রমের আর্থিক মূল্য ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশের সমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী শ্রমের এই অদৃশ্য অবিচার দূর করতে হলে সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। গৃহস্থালি কাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক নীতিমালার বাস্তবায়নই হতে পারে নারী শ্রমের অবমূল্যায়ন রোধের প্রধান উপায়। মে দিবসের চেতনায় সকল শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকে শাবিপ্রবির ২৫ কোটি টাকা জমা, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুবিধা

অর্থনীতির অদৃশ্য শক্তি: বাংলাদেশে নারী শ্রমের অবমূল্যায়ন ও বাস্তবতা

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী শ্রমের বিষয়টি আজও অনেকাংশে অবহেলিত। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএন উইমেনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নারীদের করা অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৮.৯ শতাংশ। রান্না, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেবল ‘পারিবারিক দায়িত্ব’ হিসেবে গণ্য করায় এই শ্রম জাতীয় আয়ের মূল ধারায় অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একজন গৃহিণীর দৈনিক শ্রমের আর্থিক মূল্য ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশের সমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী শ্রমের এই অদৃশ্য অবিচার দূর করতে হলে সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। গৃহস্থালি কাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক নীতিমালার বাস্তবায়নই হতে পারে নারী শ্রমের অবমূল্যায়ন রোধের প্রধান উপায়। মে দিবসের চেতনায় সকল শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।