ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবে উপসাগরীয় নেতাদের জরুরি বৈঠক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবের জেদ্দায় গতকাল মঙ্গলবার উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন হোয়াইট হাউস ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হতো, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যরা সশরীরে মিলিত হলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা জেদ্দায় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং এই সংকটগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এএফপিকে জানায়, বৈঠকে ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই বৈঠক বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘ঐক্যবদ্ধ অবস্থান’ তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পর জিসিসি’র মহাসচিবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের ‘প্রকাশ্য হামলার’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আস্থার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই সম্পর্ক পুনর্গঠনে ইরানকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় গাছ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ: ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবে উপসাগরীয় নেতাদের জরুরি বৈঠক

আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবের জেদ্দায় গতকাল মঙ্গলবার উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন হোয়াইট হাউস ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হতো, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যরা সশরীরে মিলিত হলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা জেদ্দায় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং এই সংকটগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকার ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এএফপিকে জানায়, বৈঠকে ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই বৈঠক বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘ঐক্যবদ্ধ অবস্থান’ তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পর জিসিসি’র মহাসচিবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের ‘প্রকাশ্য হামলার’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আস্থার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই সম্পর্ক পুনর্গঠনে ইরানকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।