বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা বা মার্কিন আধিপত্যের পাটাতন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের একক পরাশক্তি হিসেবে অবস্থানের সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব এক মেরুকেন্দ্রিক হয়ে পড়লেও এখন আবার শক্তির ভারসাম্যের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বিশ্ব কখনোই চিরকাল একক শক্তি দ্বারা শাসিত হয়নি।
বিখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, গত ৫০০ বছরে বিশ্বক্ষমতার কাঠামোতে তিনটি বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রথমত, ১৫শ শতকে পশ্চিমা বিশ্বের উত্থান; দ্বিতীয়ত, ১৮শ শতকের শেষভাগে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বশক্তিতে রূপান্তর। তবে বর্তমানে আমরা তৃতীয় বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছি, যাকে বলা হচ্ছে ‘বাকিদের উত্থান’। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতি বিশ্বক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে সরিয়ে আনছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন বিশ্বব্যবস্থায় কোনো একক দেশ নয়, বরং একাধিক শক্তির সমন্বয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এশীয় দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব মার্কিন আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী, যা আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের শাসন কাঠামোকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 
























