তিন দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ আজ ৫৩ বছরে পা দিলেন। গত ২৮ এপ্রিল স্পেনের আলকোবেন্দাস শহরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী জীবনের এই পর্যায়ে এসে বয়স বাড়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তার মতে, অভিনয় এমন এক পেশা যেখানে আজীবন শেখার সুযোগ থাকে এবং জীবনের এই ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ নিয়েও তিনি সমান রোমাঞ্চিত। ১৯৭৪ সালে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া পেনেলোপের শৈশবের স্বপ্ন ছিল নৃত্যশিল্পী হওয়া, তবে নির্মাতা পেদ্রো আলমোদোভারের সিনেমা দেখে তিনি অভিনয়ের প্রেমে পড়েন। হলিউডে পা রাখার শুরুতে ভাষা ও পরিচয়ের নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মেধা ও পরিশ্রমের জোরে তিনি প্রথম স্প্যানিশ অভিনেত্রী হিসেবে ২০০৮ সালে অস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে পেনেলোপে ক্রুজ স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমের সাথে সংসার করছেন এবং এই দম্পতির ১০ ও ১২ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে থেকেও পেনেলোপে তার সন্তানদের সাধারণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি ফরাসি সাময়িকী ‘এল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানদের টিভি এবং ইন্টারনেটের মতো ডিজিটাল মাধ্যম থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখেন তিনি। সন্তানদের জনপ্রিয়তার বলয়ের বাইরে রেখে আগলে রাখার এই সিদ্ধান্তটি তিনি দীর্ঘমেয়াদী করতে চান এবং বড় হওয়ার পর তারাই তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার (৭৫ মিলিয়ন ডলার) সম্পদের মালিক এই অভিনেত্রী বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও নাম লিখিয়েছেন।

পেনেলোপের ক্যারিয়ারের আলোচনায় অবধারিতভাবেই চলে আসে নির্মাতা পেদ্রো আলমোদোভারের নাম। এই জুটির দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রায় ‘ভলবার’, ‘প্যারালাল মাদার্স’ এবং ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’র মতো সাতটি নন্দিত সিনেমা রয়েছে, যার বেশিরভাগেই পেনেলোপে মাতৃত্বের জটিল সমীকরণগুলো অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পর্দার বাইরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও সেটে তারা পেশাদারিত্ব বজায় রাখেন এবং আলমোদোভারের আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকেন। শৈশবের ছোট ঘর থেকে বিশ্ব সিনেমার রানওয়েতে পৌঁছানো পেনেলোপে ক্রুজ আজ কেবল একজন শিল্পীই নন, বরং পর্দার বাইরের ব্যক্তিজীবনেও এক দায়িত্বশীল ও সচেতন মায়ের উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























