ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডব: মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার তিন বছরের শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতরা হলেন একরাম মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (২৫) এবং তাদের তিন বছরের শিশুকন্যা আসমা বিবি।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই শুরু হয় তাণ্ডব; ঘরের বেড়া ভাঙচুর, গাছ উপড়ে ফেলা এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের চিৎকার। পুরো সৈয়দ কলোনি এলাকা ভয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল উদ্দিন জানান, শব্দ শুনে একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হন। ঠিক সেই মুহূর্তে দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে আসে। প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় একরাম মিয়া তার ছয় বছরের ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে পেছনের দিকে সরে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছেমন আরা ও ছোট মেয়ে আসমা হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, হাতির পালটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। তাদের সামনে পড়ায় কারো পালানোর সুযোগ ছিল না। আক্রমণের পর হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছের ফল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়। স্থানীয়রা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও এর আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত বিচরণ করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাতির পালটিকে গভীর বনে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই: ১১ দলীয় ঐক্য

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডব: মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার তিন বছরের শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতরা হলেন একরাম মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (২৫) এবং তাদের তিন বছরের শিশুকন্যা আসমা বিবি।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই শুরু হয় তাণ্ডব; ঘরের বেড়া ভাঙচুর, গাছ উপড়ে ফেলা এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের চিৎকার। পুরো সৈয়দ কলোনি এলাকা ভয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল উদ্দিন জানান, শব্দ শুনে একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হন। ঠিক সেই মুহূর্তে দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে আসে। প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টায় একরাম মিয়া তার ছয় বছরের ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে পেছনের দিকে সরে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছেমন আরা ও ছোট মেয়ে আসমা হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, হাতির পালটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। তাদের সামনে পড়ায় কারো পালানোর সুযোগ ছিল না। আক্রমণের পর হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছের ফল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়। স্থানীয়রা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও এর আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত বিচরণ করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাতির পালটিকে গভীর বনে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।