ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: নির্মাণ ব্যয়, বিদ্যুৎ প্রাপ্তি ও সঞ্চালন লাইনের সর্বশেষ চিত্র

বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হতে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের নির্মাণ খরচ, কবে নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, গ্রিড সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইনের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে রাশিয়া। ২০১৭ সালে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাইটিং লাইসেন্স প্রদান করেছিল।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে শুরু হবে, এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণত পাইলট অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যায়। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে আরও অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। পাইলট অপারেশনের সময় বিদ্যুৎ গ্রিডে ধীরে ধীরে সরবরাহ করা হবে এবং বিভিন্ন ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

অন্যদিকে, গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত ১১শ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিড সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইনের কাজ ২০২৫ সালের মে মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিট-১ এর জন্য প্রয়োজনীয় চারটি সঞ্চালন লাইন, যার মধ্যে রূপপুর-বাঘাবাড়ি দুটি সার্কিট, রূপপুর-বগুড়া একটি এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ একটি সার্কিট রয়েছে, সেগুলো গত বছরের ৩০শে মে’র মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি লাইনের ধারণক্ষমতা চারশ মেগাওয়াট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় হাঁটু সমান পানি ভেঙে এসএসসি পরীক্ষা: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: নির্মাণ ব্যয়, বিদ্যুৎ প্রাপ্তি ও সঞ্চালন লাইনের সর্বশেষ চিত্র

আপডেট সময় : ০৯:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হতে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের নির্মাণ খরচ, কবে নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, গ্রিড সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইনের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে রাশিয়া। ২০১৭ সালে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাইটিং লাইসেন্স প্রদান করেছিল।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে শুরু হবে, এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণত পাইলট অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যায়। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে আরও অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। পাইলট অপারেশনের সময় বিদ্যুৎ গ্রিডে ধীরে ধীরে সরবরাহ করা হবে এবং বিভিন্ন ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

অন্যদিকে, গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত ১১শ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিড সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইনের কাজ ২০২৫ সালের মে মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিট-১ এর জন্য প্রয়োজনীয় চারটি সঞ্চালন লাইন, যার মধ্যে রূপপুর-বাঘাবাড়ি দুটি সার্কিট, রূপপুর-বগুড়া একটি এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ একটি সার্কিট রয়েছে, সেগুলো গত বছরের ৩০শে মে’র মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি লাইনের ধারণক্ষমতা চারশ মেগাওয়াট।