বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণ হিসেবে পরিচিত ‘ঠাকুরানী খাল’ এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লড়ছে। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি বর্তমানে দখল, ভরাট আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়ে সরু নালায় রূপ নিয়েছে। পৌরসভার ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই খালটি এককালে নৌযান চলাচলের প্রধান মাধ্যম থাকলেও এখন তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে।
সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, খালটি প্রায় ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিশাল অংশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা। ভূমি অফিসের তালিকায় ৩১ জন অবৈধ দখলদারের নাম থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দখলদারের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতার দাপটে তালিকার বাইরে থেকেই খালের জায়গা গিলে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোংলা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই খালটি শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান ধমনী। এটি রক্ষা করতে না পারলে পুরো শহর দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে খাল উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, খালের সীমানা নির্ধারণ ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালটি মুক্ত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও খাল ও জলাশয় রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























