ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়লেন মোশাররফ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সুদূর আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে এবং হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত অর্থে নিজ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন এক অনন্য মানুষ। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী তার জীবনের অর্জিত সম্পদ দিয়ে নিজ গ্রামে একে একে গড়ে তুলেছেন ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তার এই ত্যাগ ও মহতী উদ্যোগ এলাকায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে এইচএসসি পাসের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি মোশাররফ। সংসারের হাল ধরতে প্রথমে কাতার এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং পরবর্তীতে ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে নিজে পড়তে না পারার আক্ষেপ থেকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, এলাকার কোনো সন্তান যেন অর্থাভাবে অশিক্ষিত না থাকে। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলেন ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে দুটি কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা ও একটি কিন্ডারগার্টেন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, তিনি দুটি পাঠাগার স্থাপন করেছেন এবং ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য দান করেছেন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের জমি। মোশাররফ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা আজ দেশে-বিদেশে উচ্চপদে আসীন, যা তাকে পরম তৃপ্তি দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতদিয়া ঘাটে ২৫ কেজির পাঙাশ বিক্রি ৭১ হাজার টাকায়

আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়লেন মোশাররফ

আপডেট সময় : ১১:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সুদূর আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে এবং হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত অর্থে নিজ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন এক অনন্য মানুষ। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী তার জীবনের অর্জিত সম্পদ দিয়ে নিজ গ্রামে একে একে গড়ে তুলেছেন ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তার এই ত্যাগ ও মহতী উদ্যোগ এলাকায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে এইচএসসি পাসের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি মোশাররফ। সংসারের হাল ধরতে প্রথমে কাতার এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং পরবর্তীতে ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে নিজে পড়তে না পারার আক্ষেপ থেকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, এলাকার কোনো সন্তান যেন অর্থাভাবে অশিক্ষিত না থাকে। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলেন ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে দুটি কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা ও একটি কিন্ডারগার্টেন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, তিনি দুটি পাঠাগার স্থাপন করেছেন এবং ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য দান করেছেন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের জমি। মোশাররফ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা আজ দেশে-বিদেশে উচ্চপদে আসীন, যা তাকে পরম তৃপ্তি দেয়।